১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় ফুলে সাজানো গাড়িতে দুই কলেজ শিক্ষককে রাজকীয় বিদায়

কলেজ ফটকে অপেক্ষা করছিল ফুলে সজ্জিত একটি সুদৃশ্য গাড়ি। কলেজ ভবন থেকে গাড়ি পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা। কিছুক্ষণ পর ধীর পায়ে বেরিয়ে এলেন দুই প্রবীণ শিক্ষক। তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সহকর্মীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত করেন। মুহূর্তটি যেন পরিণত হয়েছিল এক আবেগঘন বিদায়ের দৃশ্যে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়া দুই শিক্ষকের সম্মানে বুধবার (১৭ জুন) দিনব্যাপী আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখা যায়।

সংবর্ধনা পাওয়া দুই শিক্ষক হলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীল রতন বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ. ইউ. হায়দার চৌধুরী।

কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এম. এম. মুজিবুর রহমান মুজিব। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, নীল রতন বিশ্বাস ১৯৯২ সালের ১৪ নভেম্বর কলেজে যোগদান করেন এবং ২০২৬ সালের ১৪ জুন অবসর গ্রহণ করেন। অন্যদিকে এ. ইউ. হায়দার চৌধুরী ১৯৯৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কলেজে যোগদান করে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি এই দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব কলেজের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না,তিনি একজন শিক্ষার্থীর জীবন গঠনের কারিগর। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নীল রতন বিশ্বাস ও এ. ইউ. হায়দার চৌধুরী সেই মহান দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী দুই শিক্ষককে ফুলের মালা পরিয়ে ও ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট এবং বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সহকর্মীরা তাঁদের কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন।

বিদায়ী বক্তব্যে দুই শিক্ষক কলেজ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। কলেজের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসাই তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

অধ্যক্ষ এম. এম. মুজিবুর রহমান মুজিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। তিনি তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকেন। নীল রতন বিশ্বাস ও এ. ইউ. হায়দার চৌধুরীর অবদান আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দুই শিক্ষককে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় কলেজের শিক্ষকরা মোটরসাইকেলযোগে তাঁদের গাড়ির পিছু পিছু যান।

এমন ব্যতিক্রমী ও সম্মানজনক বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত শিক্ষক ও অতিথিরা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু, প্রাণবন্ত ও উপভোগ্যভাবে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান এবং সহকারী অধ্যাপক মো. মোজাফফার হোসেন।

শিক্ষক অবসর নেন কর্মস্থল থেকে, কিন্তু তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও প্রেরণা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সংবাদ প্রকাশের পর আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজবে তুলে নেওয়া সেই সড়কের ইট ফেরত দিলেন অভিযুক্তরা

আলফাডাঙ্গায় ফুলে সাজানো গাড়িতে দুই কলেজ শিক্ষককে রাজকীয় বিদায়

Update Time : ১০:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

কলেজ ফটকে অপেক্ষা করছিল ফুলে সজ্জিত একটি সুদৃশ্য গাড়ি। কলেজ ভবন থেকে গাড়ি পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা। কিছুক্ষণ পর ধীর পায়ে বেরিয়ে এলেন দুই প্রবীণ শিক্ষক। তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সহকর্মীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত করেন। মুহূর্তটি যেন পরিণত হয়েছিল এক আবেগঘন বিদায়ের দৃশ্যে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়া দুই শিক্ষকের সম্মানে বুধবার (১৭ জুন) দিনব্যাপী আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখা যায়।

সংবর্ধনা পাওয়া দুই শিক্ষক হলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীল রতন বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ. ইউ. হায়দার চৌধুরী।

কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এম. এম. মুজিবুর রহমান মুজিব। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, নীল রতন বিশ্বাস ১৯৯২ সালের ১৪ নভেম্বর কলেজে যোগদান করেন এবং ২০২৬ সালের ১৪ জুন অবসর গ্রহণ করেন। অন্যদিকে এ. ইউ. হায়দার চৌধুরী ১৯৯৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কলেজে যোগদান করে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি এই দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব কলেজের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না,তিনি একজন শিক্ষার্থীর জীবন গঠনের কারিগর। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নীল রতন বিশ্বাস ও এ. ইউ. হায়দার চৌধুরী সেই মহান দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী দুই শিক্ষককে ফুলের মালা পরিয়ে ও ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট এবং বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সহকর্মীরা তাঁদের কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন।

বিদায়ী বক্তব্যে দুই শিক্ষক কলেজ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। কলেজের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসাই তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

অধ্যক্ষ এম. এম. মুজিবুর রহমান মুজিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। তিনি তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকেন। নীল রতন বিশ্বাস ও এ. ইউ. হায়দার চৌধুরীর অবদান আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দুই শিক্ষককে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় কলেজের শিক্ষকরা মোটরসাইকেলযোগে তাঁদের গাড়ির পিছু পিছু যান।

এমন ব্যতিক্রমী ও সম্মানজনক বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত শিক্ষক ও অতিথিরা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু, প্রাণবন্ত ও উপভোগ্যভাবে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান এবং সহকারী অধ্যাপক মো. মোজাফফার হোসেন।

শিক্ষক অবসর নেন কর্মস্থল থেকে, কিন্তু তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও প্রেরণা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।