১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর পড়েও স্বামীর পাশে শায়িত হেনা বেগম

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।‎ মঙ্গলবার (৫ মে) পাইককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ভ্যানচালক মিঠু খান (৫০)। তাকে দ্রুত বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।‎

‎এদিকে স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েন তার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৫)। জানাজা চলাকালীন সময়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকাল ৩টার দিকে তিনিও মারা যান।

‎‎পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা হাইদার ইসলাম অনিক বলেন, একই দিনে স্বামী-স্ত্রী দুজনের এমন মৃত্যু আমরা কখনো দেখিনি। পুরো গ্রামই শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

‎‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আকরাম খান বলেন, হেনা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত শোক ও মানসিক আঘাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।‎

‎বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার প্রতাপ মন্ডল জানান, হেনা বেগমকে হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা গুরুতর ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ফরিদপুরে পাঠানো হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

‎একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর এমন করুণ পরিণতিতে পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সার্ক গঠন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানে শহীদ জিয়ার অবদান অনন্য — খন্দকার নাসিরুল ইসলাম

মৃত্যুর পড়েও স্বামীর পাশে শায়িত হেনা বেগম

Update Time : ০৫:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।‎ মঙ্গলবার (৫ মে) পাইককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ভ্যানচালক মিঠু খান (৫০)। তাকে দ্রুত বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।‎

‎এদিকে স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েন তার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৫)। জানাজা চলাকালীন সময়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকাল ৩টার দিকে তিনিও মারা যান।

‎‎পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা হাইদার ইসলাম অনিক বলেন, একই দিনে স্বামী-স্ত্রী দুজনের এমন মৃত্যু আমরা কখনো দেখিনি। পুরো গ্রামই শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

‎‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আকরাম খান বলেন, হেনা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত শোক ও মানসিক আঘাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।‎

‎বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার প্রতাপ মন্ডল জানান, হেনা বেগমকে হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা গুরুতর ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ফরিদপুরে পাঠানো হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

‎একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর এমন করুণ পরিণতিতে পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া।