০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এতিমদের পাশে আজীবনের অঙ্গীকার: প্রতি মাসে ১০০ কেজি চাল দেবেন মরিশাসপ্রবাসী আকাশ মিয়া


মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করাই যেন তাঁর জীবনের অঙ্গীকার। প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মরিশাসের ‘ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেড’-এর পরিচালক প্রবাসী আকাশ মিয়া।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার উত্তর মালা বাইতুর রাসুল (সা.) ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে অধ্যয়নরত এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতি মাসে নিয়মিত ১০০ কেজি চাল প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্প্রতি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর এই উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির সাড়া পড়েছে।

মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দান নয়, এটি আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মহান আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেই সামর্থ্য থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ। আমি চাই, সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াক। তাহলেই সমাজে দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মরিশাসে কর্মরত থাকলেও জন্মভূমির মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অটুট রয়েছে। প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র পরিবার এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে মানবসেবাকেই তিনি সবসময় বেশি গুরুত্ব দেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, “লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাদ্যের ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি মাসে ১০০ কেজি চালের এই সহায়তা তাদের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ও সহায়ক হবে।”
শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একজন প্রবাসীর এমন ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি মাদ্রাসার জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আমরা আকাশ মিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং মানবকল্যাণে তাঁর সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকার জন্য দোয়া করি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব তার সম্পদে নয়, বরং সেই সম্পদ দিয়ে কতজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তাতেই নিহিত। প্রবাসী আকাশ মিয়ার এই উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাগুরায় বাঁশ ও কঞ্চির গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করছেন-কার্তিক পোদ্দার

এতিমদের পাশে আজীবনের অঙ্গীকার: প্রতি মাসে ১০০ কেজি চাল দেবেন মরিশাসপ্রবাসী আকাশ মিয়া

Update Time : ১১:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করাই যেন তাঁর জীবনের অঙ্গীকার। প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মরিশাসের ‘ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেড’-এর পরিচালক প্রবাসী আকাশ মিয়া।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার উত্তর মালা বাইতুর রাসুল (সা.) ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে অধ্যয়নরত এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতি মাসে নিয়মিত ১০০ কেজি চাল প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্প্রতি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর এই উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির সাড়া পড়েছে।

মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দান নয়, এটি আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মহান আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেই সামর্থ্য থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ। আমি চাই, সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াক। তাহলেই সমাজে দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মরিশাসে কর্মরত থাকলেও জন্মভূমির মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অটুট রয়েছে। প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র পরিবার এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে মানবসেবাকেই তিনি সবসময় বেশি গুরুত্ব দেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, “লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাদ্যের ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি মাসে ১০০ কেজি চালের এই সহায়তা তাদের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ও সহায়ক হবে।”
শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একজন প্রবাসীর এমন ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি মাদ্রাসার জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আমরা আকাশ মিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং মানবকল্যাণে তাঁর সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকার জন্য দোয়া করি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব তার সম্পদে নয়, বরং সেই সম্পদ দিয়ে কতজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তাতেই নিহিত। প্রবাসী আকাশ মিয়ার এই উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।