০৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমড়া পাড়ার জেরে আলফাডাঙ্গায় নারীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধরের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিকরপাড়া গ্রামে আমড়া পাড়ার জেরে এক নারীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আহত মোহিতোন বেগম (৪৬) বাদী হয়ে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে আলফাডাঙ্গা থানায় প্রতিবেশী নুর জাহান বেগম ওরফে নুরিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে টিকরপাড়া গ্রামের আহাত মোল্যা তার নিজস্ব আমড়া গাছের ফল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। আমড়া পাড়ার সময় গাছের কিছু ডাল প্রতিবেশী নুর জাহান বেগমের সীমানার দিকে চলে গেলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে নুর জাহান বেগম ও আহাত মোল্যার স্ত্রী মোহিতোন বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে নুর জাহান বেগমের নির্দেশে তার সহযোগীরা মোহিতোন বেগমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বামী আহাত মোল্যাকেও মারধর করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা দোকানের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় তারা সংঘবদ্ধভাবে মোহিতোন বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে হায়াত আলীকে (১৭) হত্যার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা জড়ো হলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ মোল্লা, ছরোয়ার মোল্লা, রবিন মোল্লাসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, দুপুরের দিকে আমড়া পাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি কয়েকজন মিলে মোহিতোনকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করছে। পরে আমরা গিয়ে তাদের থামাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুর জাহান বেগম বলেন, “মোহিতোন বেগমের ছেলে হায়াত আলী আমাকে রড দিয়ে আঘাত করেছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। বরং তারাই আমাকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে কালকিনিতে মানববন্ধন, যুবদল নেতা রাশেদ বেপারীর গ্রেপ্তারের দাবি

আমড়া পাড়ার জেরে আলফাডাঙ্গায় নারীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধরের অভিযোগ

Update Time : ১০:১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিকরপাড়া গ্রামে আমড়া পাড়ার জেরে এক নারীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আহত মোহিতোন বেগম (৪৬) বাদী হয়ে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে আলফাডাঙ্গা থানায় প্রতিবেশী নুর জাহান বেগম ওরফে নুরিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে টিকরপাড়া গ্রামের আহাত মোল্যা তার নিজস্ব আমড়া গাছের ফল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। আমড়া পাড়ার সময় গাছের কিছু ডাল প্রতিবেশী নুর জাহান বেগমের সীমানার দিকে চলে গেলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে নুর জাহান বেগম ও আহাত মোল্যার স্ত্রী মোহিতোন বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে নুর জাহান বেগমের নির্দেশে তার সহযোগীরা মোহিতোন বেগমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বামী আহাত মোল্যাকেও মারধর করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা দোকানের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় তারা সংঘবদ্ধভাবে মোহিতোন বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে হায়াত আলীকে (১৭) হত্যার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা জড়ো হলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ মোল্লা, ছরোয়ার মোল্লা, রবিন মোল্লাসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, দুপুরের দিকে আমড়া পাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি কয়েকজন মিলে মোহিতোনকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করছে। পরে আমরা গিয়ে তাদের থামাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুর জাহান বেগম বলেন, “মোহিতোন বেগমের ছেলে হায়াত আলী আমাকে রড দিয়ে আঘাত করেছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। বরং তারাই আমাকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।