০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা: পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, ডুবে গেছে সড়ক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।


সাভারে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ঢাকার সাভার পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ বেতারের স্টাফ কোয়ার্টার (রেডিও কলোনি)সহ ব্যাংক কলোনি, আড়াপাড়া, বাজার রোড, পাকিজা মোড়, ইমান্দিপুর, শাহীবাগ, গেন্ডা, তালবাগ, রাজাবাড়ি ও ডগরমোড়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে কয়েকশ গজ দূরে অবস্থিত বাংলাদেশ বেতারের স্টাফ কোয়ার্টার (রেডিও কলোনি) এলাকায় প্রায় ১০০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কোয়ার্টারের অভ্যন্তরীণ সড়ক, খেলার মাঠ এবং আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে রেডিও কলোনি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুন্নাফ মিয়া প্রশাসনের কাছে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। এতে বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, রেডিও কলোনির ভেতরে রেডিও কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেডিও কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ এবং রেডিও কলোনি কল্যাণ সমিতি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

রেডিও কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কলোনির মাঠে পশুর হাট বসানোর সময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর টানা বর্ষণে পানি বের হতে না পারায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সাভার পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যাংক কলোনির বাসিন্দারা। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি, আবার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল সেখানে উপস্থিতির হারও ছিল কম। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাভার পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

এদিকে পাকিজা ডাইংয়ের কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুর্গন্ধযুক্ত ওই পানিতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের মধ্যে চর্মরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে দ্রুত কাজ চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সাভারবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কালকিনিতে ১৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা: পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, ডুবে গেছে সড়ক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

Update Time : ০৬:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


সাভারে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ঢাকার সাভার পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ বেতারের স্টাফ কোয়ার্টার (রেডিও কলোনি)সহ ব্যাংক কলোনি, আড়াপাড়া, বাজার রোড, পাকিজা মোড়, ইমান্দিপুর, শাহীবাগ, গেন্ডা, তালবাগ, রাজাবাড়ি ও ডগরমোড়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে কয়েকশ গজ দূরে অবস্থিত বাংলাদেশ বেতারের স্টাফ কোয়ার্টার (রেডিও কলোনি) এলাকায় প্রায় ১০০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কোয়ার্টারের অভ্যন্তরীণ সড়ক, খেলার মাঠ এবং আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে রেডিও কলোনি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুন্নাফ মিয়া প্রশাসনের কাছে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। এতে বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, রেডিও কলোনির ভেতরে রেডিও কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেডিও কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ এবং রেডিও কলোনি কল্যাণ সমিতি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

রেডিও কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কলোনির মাঠে পশুর হাট বসানোর সময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর টানা বর্ষণে পানি বের হতে না পারায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সাভার পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যাংক কলোনির বাসিন্দারা। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি, আবার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল সেখানে উপস্থিতির হারও ছিল কম। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাভার পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

এদিকে পাকিজা ডাইংয়ের কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুর্গন্ধযুক্ত ওই পানিতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের মধ্যে চর্মরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে দ্রুত কাজ চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সাভারবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।