০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে ইছামতি নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের নতুন জায়গা ভরাটের নামে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

স্থানীয়ারা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভিটি ভরাটের জন্য সরকারি নিয়মানুযায়ী অন্য কোথাও থেকে মাটি এনে ভিটি ভরাট করার কথা থাকলেও, ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান তাঁর লোকজন দিয়ে পরিষদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাটি তুলছেন।

নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই বর্ষাকালে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকি আমরা। তার ওপর খোদ চেয়ারম্যান যদি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটেন, তবে আমাদের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হতে বেশি সময় লাগবে না। সরকারি কাজের নামে আমাদের বুক খালি করার আয়োজন চলছে। কিন্তু চেয়ারম্যান সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন কৃষকদলের শিবালয় উপজেলার সভাপতি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই।”

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় রতন নামে এক ব্যক্তি তাঁর দেশীয় তৈরি ড্রেজার মেশিন দিয়ে ইছামতি নদী থেকে দিনরাত মাটি তুলছেন। নদী থেকে এভাবে বালু বা মাটি উত্তোলনের ব্যাপারে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে ড্রেজার চালক রতন সরাসরি চেয়ারম্যানের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “আমার কোনো অনুমতি নেই। চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আমাকে কাজ দিয়েছেন, তাই আমি ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে পরিষদের ভিটি ভরাট করে দিচ্ছি। এর বেশি কিছু আমি জানি না।”

নদী থেকে অবৈধ উপায়ে মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান ভিটি ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করলেও অবৈধ ড্রেজার ও নদী ভাঙনের অভিযোগের প্রসঙ্গে কৌশলে এড়িয়ে যান। এর বাইরে অন্য কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রাণী কর্মকার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাগুরায় বাঁশ ও কঞ্চির গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করছেন-কার্তিক পোদ্দার

শিবালয়ে ইছামতি নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

Update Time : ০৭:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের নতুন জায়গা ভরাটের নামে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

স্থানীয়ারা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভিটি ভরাটের জন্য সরকারি নিয়মানুযায়ী অন্য কোথাও থেকে মাটি এনে ভিটি ভরাট করার কথা থাকলেও, ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান তাঁর লোকজন দিয়ে পরিষদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাটি তুলছেন।

নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই বর্ষাকালে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকি আমরা। তার ওপর খোদ চেয়ারম্যান যদি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটেন, তবে আমাদের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হতে বেশি সময় লাগবে না। সরকারি কাজের নামে আমাদের বুক খালি করার আয়োজন চলছে। কিন্তু চেয়ারম্যান সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন কৃষকদলের শিবালয় উপজেলার সভাপতি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই।”

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় রতন নামে এক ব্যক্তি তাঁর দেশীয় তৈরি ড্রেজার মেশিন দিয়ে ইছামতি নদী থেকে দিনরাত মাটি তুলছেন। নদী থেকে এভাবে বালু বা মাটি উত্তোলনের ব্যাপারে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে ড্রেজার চালক রতন সরাসরি চেয়ারম্যানের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “আমার কোনো অনুমতি নেই। চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আমাকে কাজ দিয়েছেন, তাই আমি ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে পরিষদের ভিটি ভরাট করে দিচ্ছি। এর বেশি কিছু আমি জানি না।”

নদী থেকে অবৈধ উপায়ে মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান ভিটি ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করলেও অবৈধ ড্রেজার ও নদী ভাঙনের অভিযোগের প্রসঙ্গে কৌশলে এড়িয়ে যান। এর বাইরে অন্য কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রাণী কর্মকার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”