মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম রয়েছে। একই সঙ্গে মজুদের চেয়ে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও হিসাব পাওয়া যায়নি। সরকারি খাদ্যগুদামে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি ও হিসাবের গরমিলের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান মুঠোফোনে জানান,এ ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তাদের দুই জনকে বদলি করা হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ আগস্টের নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে ঘিওর খাদ্যগুদামের মজুত পরিস্থিতি ঠিকঠাক দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিটে বেরিয়ে আসে বড় ধরনের গরমিল। অডিটে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তার হিসাব না থাকা এবং মজুদের তুলনায় ৪১ টন ধান বেশি থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, ১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে মজুত স্বাভাবিক দেখানোর পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি কীভাবে হলো। নিয়মিত মজুত যাচাই ও গুদাম তদারকিতে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশের প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। অডিট চলাকালে ঘিওরের খাদ্যগুদামে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে খাদ্যগুদামটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।
সরকারি খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্যের মজুত, হিসাব সংরক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কিন্তু নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে মজুত ঠিকঠাক দেখানোর পর অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ চাল-গমের ঘাটতি এবং বস্তার হিসাব না পাওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘাটতির বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। মজুতের এই অসঙ্গতি হিসাবের ভুল, দায়িত্বে অবহেলা নাকি অন্য কোনো অনিয়মের ফল তা বিভাগীয় তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
খাদ্যগুদামের মজুত ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ, তদারকি এবং খাদ্যশস্যের ঘাটতির কারণসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 


















