ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করা এবং মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞার অভিযোগের অবসান হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে। ফিরে এসেছে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি।
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে আলফাডাঙ্গা থানা চত্বরে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসিবের সার্বিক সহযোগিতায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে চর নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিরোধ নিরসনের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাইরে থাকা আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে আসার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরবর্তীতে ওই পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও নিষেধ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খালিদ হাসান গত ২৬ আগস্ট আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা আরও জোরালো হয়। পরে সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সমঝোতা বৈঠকে দুই পক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তারা পরস্পরের প্রতি থাকা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আগের মতো মিলেমিশে বসবাস এবং স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
বৈঠকে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে শেখ সাদী হাসান ভুক্তভোগী খালিদ হাসানের কাছে পরিবারটিকে একঘরে করার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করেন। পরে উপস্থিত সবার সামনে দুই পক্ষ পরস্পরকে কোলাকুলি করেন। এতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, ঘটনাটি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী ছিল। তাই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। তারা এখন থেকে মিলেমিশে বসবাস করার অঙ্গীকার করেছেন।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় থানা চত্বরে উভয় পক্ষকে নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে আপস-মীমাংসায় পৌঁছেছেন।
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি 


















