০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় সরকারি যাচাই-বাছাই কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতা, সদস্য মনোনয়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সদস্য করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সম্মানিভোগী নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে ইউএনওকে সভাপতি এবং মো. মনিরুজ্জামান মনির ও ননী গোপাল স্বর্ণকারকে সদস্য করা হয়েছে। আদেশে ননী গোপাল স্বর্ণকারকে গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক।

অভিযোগের বিষয়ে ননী গোপাল স্বর্ণকার বলেন, আমি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে নেই। আমাকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ হিসেবে কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে থাকে, তাহলে প্রশাসন বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, ননী গোপাল স্বর্ণকার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, সরকারি যাচাই-বাছাই কমিটিতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা দুঃখজনক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. শাহানুর জামান বলেন, আমি আলফাডাঙ্গায় নতুন যোগদান করেছি। এ কমিটি গঠনের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস আদেশের মাধ্যমে কমিটিটি গঠন করেছেন। ননী গোপাল স্বর্ণকার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, সে বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে অবগত নই।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থের আওতায় সুবিধাভোগী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সালিশে বাহিরের লোক, এরপরই একঘরেভুক্তভোগী পরিবারের থানায় অভিযোগ

আলফাডাঙ্গায় সরকারি যাচাই-বাছাই কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতা, সদস্য মনোনয়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

Update Time : ০৯:০০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সদস্য করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সম্মানিভোগী নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে ইউএনওকে সভাপতি এবং মো. মনিরুজ্জামান মনির ও ননী গোপাল স্বর্ণকারকে সদস্য করা হয়েছে। আদেশে ননী গোপাল স্বর্ণকারকে গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক।

অভিযোগের বিষয়ে ননী গোপাল স্বর্ণকার বলেন, আমি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে নেই। আমাকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ হিসেবে কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে থাকে, তাহলে প্রশাসন বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, ননী গোপাল স্বর্ণকার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, সরকারি যাচাই-বাছাই কমিটিতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা দুঃখজনক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. শাহানুর জামান বলেন, আমি আলফাডাঙ্গায় নতুন যোগদান করেছি। এ কমিটি গঠনের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস আদেশের মাধ্যমে কমিটিটি গঠন করেছেন। ননী গোপাল স্বর্ণকার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, সে বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে অবগত নই।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থের আওতায় সুবিধাভোগী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।