১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্দায় নয়, বাস্তবেই সিনেমার মতো ঘটনা: বাঁধুলি খালকুলায় প্রেম, বিয়ে ও দাম্পত্য জটিলতা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধুলি খালকুলা এলাকায় প্রেমের সম্পর্ক, গোপন বিয়ে ও পরবর্তী দাম্পত্য জটিলতাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইহান মৃধা (২৪) ও পপি খাতুন (২২)-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন বছর চার মাস আগে তারা গোপনে কোর্ট ম্যারেজ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তীতে রাইহান মৃধা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুরইসলামের সঙ্গে পপি খাতুনের বিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিয়ের পর নুরইসলাম ও পপি খাতুনের সংসার চলছিল এবং তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, রাইহান মৃধারও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো সম্পর্কের কারণে রাইহান মৃধা ও পপি খাতুনের মধ্যে গোপন যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এর আগেও বিষয়টি কয়েকবার প্রকাশ্যে এলে পপি খাতুনের স্বামী নুরইসলাম তাকে ক্ষমা করে সংসারে রাখেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে রাইহান মৃধা ও পপি খাতুনকে একসঙ্গে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুকুল শিকদার, মহল্লার মাতব্বর মো. শাহিন শেখ, প্রিন্স সবুজ, পপি খাতুনের স্বামী নুরইসলামের পরিবারের অভিভাবক মো. কবির হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সালিশের মাধ্যমে পপি খাতুন ও নুরইসলামের দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাকে রাইহান মৃধার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নতুন করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সালিশে জুয়েল মন্ডল, হিরু মন্ডল, চঞ্চল শেখ, ইলিয়াস মন্ডল, আনোয়ার শেখ, সাগর শেখ, এনামুল মৃধাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত আইনি নথি, আদালতের আদেশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোর্ট ম্যারেজ, তালাক ও পরবর্তী বিয়ের আইনগত বৈধতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

পর্দায় নয়, বাস্তবেই সিনেমার মতো ঘটনা: বাঁধুলি খালকুলায় প্রেম, বিয়ে ও দাম্পত্য জটিলতা

পর্দায় নয়, বাস্তবেই সিনেমার মতো ঘটনা: বাঁধুলি খালকুলায় প্রেম, বিয়ে ও দাম্পত্য জটিলতা

Update Time : ০৯:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধুলি খালকুলা এলাকায় প্রেমের সম্পর্ক, গোপন বিয়ে ও পরবর্তী দাম্পত্য জটিলতাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইহান মৃধা (২৪) ও পপি খাতুন (২২)-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন বছর চার মাস আগে তারা গোপনে কোর্ট ম্যারেজ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তীতে রাইহান মৃধা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুরইসলামের সঙ্গে পপি খাতুনের বিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিয়ের পর নুরইসলাম ও পপি খাতুনের সংসার চলছিল এবং তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, রাইহান মৃধারও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো সম্পর্কের কারণে রাইহান মৃধা ও পপি খাতুনের মধ্যে গোপন যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এর আগেও বিষয়টি কয়েকবার প্রকাশ্যে এলে পপি খাতুনের স্বামী নুরইসলাম তাকে ক্ষমা করে সংসারে রাখেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে রাইহান মৃধা ও পপি খাতুনকে একসঙ্গে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুকুল শিকদার, মহল্লার মাতব্বর মো. শাহিন শেখ, প্রিন্স সবুজ, পপি খাতুনের স্বামী নুরইসলামের পরিবারের অভিভাবক মো. কবির হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সালিশের মাধ্যমে পপি খাতুন ও নুরইসলামের দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাকে রাইহান মৃধার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নতুন করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সালিশে জুয়েল মন্ডল, হিরু মন্ডল, চঞ্চল শেখ, ইলিয়াস মন্ডল, আনোয়ার শেখ, সাগর শেখ, এনামুল মৃধাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত আইনি নথি, আদালতের আদেশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোর্ট ম্যারেজ, তালাক ও পরবর্তী বিয়ের আইনগত বৈধতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।