০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল এক্সপ্রেসে ‘টাকার বিনিময়ে এসি সিট’! অভিযোগে অ্যাটেনডেন্ট বদরুজ্জামান বুকড অফ


ভারত বাংলাদেশ যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় ঢাকা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল কথিত অনিয়মের এক অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে ট্রেনটির কারেন্ট অ্যাটেনডেন্ট বদরুজ্জামান। অভিযোগ—বিনা টিকিটের যাত্রী এবং সাধারণ টিকিটধারী দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ট্রেনের এসি কামরায়, বিশেষ করে স্নিগ্ধা কম্পার্টমেন্টে, বসার ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, এভাবে টাকা আদায়ের পর যাত্রীদের হাতে একটি নির্দিষ্ট রশিদও দেওয়া হতো। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চলে আসার অভিযোগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলে তাকে ট্রেনের ভেতরেই নানাভাবে হেনস্তা ও চাপে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
অবশেষে এসব অভিযোগের পর ৮ আগস্ট ২০২৬ বদরুজ্জামানকে ‘বুকড অফ’ করা হয়েছে বলে প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিটি ডিএমই, পাকশী-এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বেনাপোল এক্সপ্রেসের এসি কামরায় নির্ধারিত আসন না থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বসানোর একটি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল।
বিশেষ করে যারা বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠতেন অথবা সাধারণ কামরায় দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এসি কামরায় বসার সুযোগ করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এ জন্য নেওয়া অর্থের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের রশিদও দেওয়া হতো। ফলে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি পদ্ধতিগত অনিয়ম ছিল কি না, তা এখন তদন্তের দাবি রাখে।
প্রশ্ন উঠেছে—ট্রেনের নির্ধারিত টিকিটের বাইরে এসি কামরায় যাত্রী বসানোর এই সুযোগ কে দিয়েছিল? টাকা নেওয়ার অনুমোদনই বা কোথা থেকে এলো? আর রশিদ দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে ছিল কি না?
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে স্বাভাবিকভাবে অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হতো না।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদকারী যাত্রীর বিরুদ্ধে ট্রেনের ভেতরেই বিনা টিকিটের যাত্রীদের ব্যবহার করে এক ধরনের ‘মব’ তৈরি করা হতো। এতে অভিযোগকারী যাত্রী ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপের মুখে পড়তেন।
ফলে অনেক যাত্রী অনিয়ম দেখলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ না করে চুপ থাকতেন বলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য।
প্রতিবাদ করেছিলেন এক সাংবাদিক, এরপরই লাঞ্ছনা
প্রায় এক বছর আগে বেনাপোল এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সময় একজন সাংবাদিক কথিত এই অনিয়ম নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ট্রেনের স্নিগ্ধা কম্পার্টমেন্টে, অর্থাৎ এসি কামরায়। সাংবাদিক সেখানে বিনা টিকিটের যাত্রীদের অর্থের বিনিময়ে বসানোর অভিযোগের প্রতিবাদ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাটেনডেন্ট বদরুজ্জামান ওই সাংবাদিকের কাছে প্রশ্ন তোলেন—তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলো কেন এবং এতে তার কী?
পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিনা টিকিটে থাকা যাত্রীদের সহায়তায় ওই সাংবাদিককে কম্পার্টমেন্টের মধ্যেই চরমভাবে লাঞ্ছিতও করা হয় বলে অভিযোগ।
একটি গণপরিবহনে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত হয়রানির বিষয় নয়; এটি ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং কর্মীদের দায়িত্ববোধ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা
বেনাপোল এক্সপ্রেসের গুরুত্ব শুধু ঢাকা থেকে বেনাপোল যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বড় একটি অংশ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত ব্যবহার করেন। ভারতের কলকাতা ও আশপাশের এলাকার যাত্রীরা বনগাঁ পর্যন্ত এসে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর বেনাপোল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেনাপোল এক্সপ্রেস তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাহন।
একইভাবে বাংলাদেশি যাত্রীরাও এই রুট ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করেন।

ফলে বেনাপোল এক্সপ্রেসকে অনেকেই কার্যত দুই দেশের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।
এই ট্রেনের যাত্রীসেবায় কোনো অনিয়ম হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় যাত্রীদের ওপর পড়ে না; বিদেশি যাত্রীদের কাছেও বাংলাদেশের রেলসেবার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও অভিযোগ ছিল। কিন্তু নানা কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অবশেষে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর গত ৮ আগস্ট তাকে বুকড অফ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত নথিতে C/LO No-21/08 এবং SSAE (TE-TXR), BEN-এর উল্লেখ রয়েছে। নথিটি ডিএমই, পাকশীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এখন সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন হচ্ছে—বুকড অফ করাই কি শেষ ব্যবস্থা, নাকি অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্ত হবে?
কারণ একজন রেল কর্মীর বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘদিন ধরে—
বিনা টিকিটের যাত্রীকে এসি কামরায় বসানো, অর্থের বিনিময়ে আসন দেওয়া,নির্দিষ্ট রশিদে টাকা নেওয়া,
অভিযোগকারী যাত্রীকে ভয় দেখানো, এবং সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে বিষয়গুলো আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
রেলওয়ের যাত্রীদের প্রশ্ন—একজন কারেন্ট অ্যাটেনডেন্ট একা কি এতদিন ধরে এসি কামরায় বিনা টিকিটের যাত্রী বসাতে পারতেন?

যদি সত্যিই অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বসানোর ব্যবস্থা চলত, তাহলে এ ব্যবস্থার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ট্রেনে কর্তব্যরত অন্যান্য কর্মী, সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সালিশে বাহিরের লোক, এরপরই একঘরেভুক্তভোগী পরিবারের থানায় অভিযোগ

বেনাপোল এক্সপ্রেসে ‘টাকার বিনিময়ে এসি সিট’! অভিযোগে অ্যাটেনডেন্ট বদরুজ্জামান বুকড অফ

Update Time : ০৫:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬


ভারত বাংলাদেশ যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় ঢাকা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল কথিত অনিয়মের এক অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে ট্রেনটির কারেন্ট অ্যাটেনডেন্ট বদরুজ্জামান। অভিযোগ—বিনা টিকিটের যাত্রী এবং সাধারণ টিকিটধারী দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ট্রেনের এসি কামরায়, বিশেষ করে স্নিগ্ধা কম্পার্টমেন্টে, বসার ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, এভাবে টাকা আদায়ের পর যাত্রীদের হাতে একটি নির্দিষ্ট রশিদও দেওয়া হতো। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চলে আসার অভিযোগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলে তাকে ট্রেনের ভেতরেই নানাভাবে হেনস্তা ও চাপে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
অবশেষে এসব অভিযোগের পর ৮ আগস্ট ২০২৬ বদরুজ্জামানকে ‘বুকড অফ’ করা হয়েছে বলে প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিটি ডিএমই, পাকশী-এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বেনাপোল এক্সপ্রেসের এসি কামরায় নির্ধারিত আসন না থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বসানোর একটি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল।
বিশেষ করে যারা বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠতেন অথবা সাধারণ কামরায় দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এসি কামরায় বসার সুযোগ করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এ জন্য নেওয়া অর্থের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের রশিদও দেওয়া হতো। ফলে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি পদ্ধতিগত অনিয়ম ছিল কি না, তা এখন তদন্তের দাবি রাখে।
প্রশ্ন উঠেছে—ট্রেনের নির্ধারিত টিকিটের বাইরে এসি কামরায় যাত্রী বসানোর এই সুযোগ কে দিয়েছিল? টাকা নেওয়ার অনুমোদনই বা কোথা থেকে এলো? আর রশিদ দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে ছিল কি না?
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে স্বাভাবিকভাবে অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হতো না।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদকারী যাত্রীর বিরুদ্ধে ট্রেনের ভেতরেই বিনা টিকিটের যাত্রীদের ব্যবহার করে এক ধরনের ‘মব’ তৈরি করা হতো। এতে অভিযোগকারী যাত্রী ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপের মুখে পড়তেন।
ফলে অনেক যাত্রী অনিয়ম দেখলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ না করে চুপ থাকতেন বলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য।
প্রতিবাদ করেছিলেন এক সাংবাদিক, এরপরই লাঞ্ছনা
প্রায় এক বছর আগে বেনাপোল এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সময় একজন সাংবাদিক কথিত এই অনিয়ম নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ট্রেনের স্নিগ্ধা কম্পার্টমেন্টে, অর্থাৎ এসি কামরায়। সাংবাদিক সেখানে বিনা টিকিটের যাত্রীদের অর্থের বিনিময়ে বসানোর অভিযোগের প্রতিবাদ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাটেনডেন্ট বদরুজ্জামান ওই সাংবাদিকের কাছে প্রশ্ন তোলেন—তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলো কেন এবং এতে তার কী?
পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিনা টিকিটে থাকা যাত্রীদের সহায়তায় ওই সাংবাদিককে কম্পার্টমেন্টের মধ্যেই চরমভাবে লাঞ্ছিতও করা হয় বলে অভিযোগ।
একটি গণপরিবহনে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত হয়রানির বিষয় নয়; এটি ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং কর্মীদের দায়িত্ববোধ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা
বেনাপোল এক্সপ্রেসের গুরুত্ব শুধু ঢাকা থেকে বেনাপোল যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বড় একটি অংশ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত ব্যবহার করেন। ভারতের কলকাতা ও আশপাশের এলাকার যাত্রীরা বনগাঁ পর্যন্ত এসে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর বেনাপোল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেনাপোল এক্সপ্রেস তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাহন।
একইভাবে বাংলাদেশি যাত্রীরাও এই রুট ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করেন।

ফলে বেনাপোল এক্সপ্রেসকে অনেকেই কার্যত দুই দেশের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।
এই ট্রেনের যাত্রীসেবায় কোনো অনিয়ম হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় যাত্রীদের ওপর পড়ে না; বিদেশি যাত্রীদের কাছেও বাংলাদেশের রেলসেবার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও অভিযোগ ছিল। কিন্তু নানা কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অবশেষে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর গত ৮ আগস্ট তাকে বুকড অফ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত নথিতে C/LO No-21/08 এবং SSAE (TE-TXR), BEN-এর উল্লেখ রয়েছে। নথিটি ডিএমই, পাকশীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এখন সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন হচ্ছে—বুকড অফ করাই কি শেষ ব্যবস্থা, নাকি অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্ত হবে?
কারণ একজন রেল কর্মীর বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘদিন ধরে—
বিনা টিকিটের যাত্রীকে এসি কামরায় বসানো, অর্থের বিনিময়ে আসন দেওয়া,নির্দিষ্ট রশিদে টাকা নেওয়া,
অভিযোগকারী যাত্রীকে ভয় দেখানো, এবং সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে বিষয়গুলো আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
রেলওয়ের যাত্রীদের প্রশ্ন—একজন কারেন্ট অ্যাটেনডেন্ট একা কি এতদিন ধরে এসি কামরায় বিনা টিকিটের যাত্রী বসাতে পারতেন?

যদি সত্যিই অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বসানোর ব্যবস্থা চলত, তাহলে এ ব্যবস্থার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ট্রেনে কর্তব্যরত অন্যান্য কর্মী, সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।