০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালিশে বাহিরের লোক, এরপরই একঘরেভুক্তভোগী পরিবারের থানায় অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে গ্রামের বাহির থেকে লোক আনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করা এবং মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী খালিদ হাসান বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় অভিযোগটি জমা দেন।
অভিযোগে আবুল সরকার (৮৫), তাজ মোহাম্মাদ (৫৪) ও শেখ সাদী (৩৫)-সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ২৪ ও ৩০ জুলাই দুই দফায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে জমি পরিমাপের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সালিশ বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাইরে থাকা কয়েকজন আত্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে উপস্থিত করায় স্থানীয় কয়েকজন মাতুব্বর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জুলাই ও ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা ডেকে আব্দুর রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

বাদী খালিদ হাসান অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাতুব্বরদের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তিনি আবুল সরকার ও স্থানীয় সেলিম মিয়ার কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। তবে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। বরং কেউ ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তাকেও একঘরে করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ‘চর নওয়াপাড়া একতা যুব সমাজ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে সমাজচ্যুতির সভার অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পরিবারটির সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে হেয় হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা এবং আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সালিশে বাহিরের লোক, এরপরই একঘরেভুক্তভোগী পরিবারের থানায় অভিযোগ

সালিশে বাহিরের লোক, এরপরই একঘরেভুক্তভোগী পরিবারের থানায় অভিযোগ

Update Time : ০৭:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে গ্রামের বাহির থেকে লোক আনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করা এবং মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী খালিদ হাসান বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় অভিযোগটি জমা দেন।
অভিযোগে আবুল সরকার (৮৫), তাজ মোহাম্মাদ (৫৪) ও শেখ সাদী (৩৫)-সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ২৪ ও ৩০ জুলাই দুই দফায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে জমি পরিমাপের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সালিশ বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাইরে থাকা কয়েকজন আত্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে উপস্থিত করায় স্থানীয় কয়েকজন মাতুব্বর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জুলাই ও ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা ডেকে আব্দুর রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

বাদী খালিদ হাসান অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাতুব্বরদের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তিনি আবুল সরকার ও স্থানীয় সেলিম মিয়ার কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। তবে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। বরং কেউ ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তাকেও একঘরে করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ‘চর নওয়াপাড়া একতা যুব সমাজ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে সমাজচ্যুতির সভার অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পরিবারটির সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে হেয় হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা এবং আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।